আবার কবে ফেরা হবে লেখায়

পান্থপথ, ঢাকা
রাত একটা।


কী লিখবো জানি না। বেশ কিছুদিন পর আজ হঠাৎ কিছু একটা লেখার ভূত চেপেছে মাথায়। মাঝে মাঝে এমন হয়। লেখার জন্য মাথাটা ঝিম ধরে থাকে। কিন্তু মাথার ভেতর লিখে ফেলার মতো বিশেষ কোনো ভাবনা নেই। শব্দ এবং বাক্যের দীনতা তো আছেই। সব মিলিয়ে বড় কঠিন এই সময়টা। গত কয়েকটি দিন ব্যস্ত ছিলাম বিপিএল নিয়ে। মাঝখানে দুদিনের বিরতি। কাল থেকে আবার বিপিএল। আবার শব্দ গুনে গুনে কাগজ ভরে তোলার বিরামহীন চেষ্টায় সময় কাটবে। পত্রিকার কাজের জন্য লেখা আর নিজের জন্য লেখাটা এক কথা নয়। পত্রিকার জন্য তো প্রতিদিনই লেখতে হয়। কিন্তু নিজের জন্য ওতো সময় পাওয়া যায় না। যায় না বলেই হঠাৎ হঠাৎ মাথাটা ঝিম ধরে। নিজের জন্য কিছু চায়।

কী লিখবো সত্যি জানি না। এই মুহূর্তে ‘লেখা’ নাকি ‘লিখা’ নিয়ে তালগোল পেকে যাচ্ছে। কোনটা সঠিক কোনটা ভুল, নাকি দুটিই সঠিক; তা বলতে পারছি না। কেউ একদিন ধরে ধরে শিখিয়ে দিয়েছে কোথায় কী হবে। কিন্তু মনে করতে পারছি না। কে শিখিয়েছে, তার কথাও ভুলে গেছি।

আজকের সন্ধ্যাটা দারুণ ছিলো। যাকা ভাই ও সাইফ ভাইয়ের মুখরিত একটা সন্ধ্যা কেটেছে। শেষ দিকে তিনজনে বসে তিনমগ কড়া কফি গিলেছি। হয়তো এ কারণেই ঘুম আসছে না। ব্যাপারটা এ রকম নয় যে, এ কারণেই আমি জেগে আছি। টুকটাক কাজের জন্য প্রতিদিনই মাঝ রাতে বিছানায় যাই। তবে প্রতিদিন ঘুম চোখে টুকটাক করে কিবোর্ড চেপে যাই। আজ সেই ঘুম ঘুম ভাবটা উধাও। কড়া কফি ঘুমের জন্য সব সময়ই খারাপ। রাতে কখনোই তাই কফি খাই না। আজ কেনো খেলাম, বলতে পারছি না। জীবনে এমন দিন প্রায়ই আসে, যখন মানুষ কী করে, কেনো করে; তা নিজেই জানে না। জানতে ইচ্ছেও করে না।

আজ নভেম্বরের শেষ দিন। অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি এ সময়টাতে হালকা শীত পড়ে। রাতের ঘুমটা বড্ড ডিস্টার্ব হয় এ সময়। ফ্যান চালু করে রাখলে মাঝরাতে শীত করে। কাথা গাঁয়ে জড়ালে বের হয় ঘাম। এমন সময়ের সন্ধ্যাগুলো বড় অদ্ভূত হয়। সন্ধ্যার গায়ে কেমন স্মৃতিকাতরতা মাখানো থাকে। আজ যেমন আমার মধ্যেই ভর করেছিলো কিছু স্মৃতি। যা আমি মনে করতে চাই না। যা আমি ভুলেও যেতে চাই না।

আজসহ দুদিন পর, মানে দুই ডিসেম্বর জীবনের একটা চক্র পূর্ণ হবে। একটা মানুষকে ছাড়া তিন ঘণ্টা বেঁচে থাকা সম্ভব ছিলো না এক সময়। দুদিন পর তাকে ছাড়া থাকার তিন বছর পূর্ণ হবে। এটাকে জীবনের কোনো চক্র পূরণ বলা যায়? যায় না বোধহয়! তবুও কেনো চক্র পূরণ বললাম, বোঝা গেলো না। আসলে লেখার মতো যথেষ্ট ভাবনা নেই এই মুহূর্তে। যা লেখে ফেলেছি তা আর বদলালাম না।

গত তিনটা বছর কিভাবে গেলো। তিন বছর আগে আমি কোথায় ছিলাম। আজ কোথায় দাঁড়িয়ে আছি। এ সব হিসেব করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু আমি জানি, এটা আমার দ্বারা সম্ভব নয়। মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তার জীবনের পরিণতি আন্দাজ করতে পারে। এটাকে ভবিষ্যত অনুমান করা বলা যায় না। এটা আসলে সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে প্রত্যেক মানুষকে দেয়া এক ধরনের ক্ষমতা। এই ক্ষমতা আমি নিজেরটা টের পাই। অন্যেরটা বুঝি না। এই চিন্তাটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত।

যেমন একান্ত ব্যক্তিগত আমার এই লেখাটা। এই ব্যক্তিগত লেখাই আমি স্বীকার করে নিচ্ছি, জীবনের হিসেব নিয়ে বসা বা তা মিলানোর চেষ্টা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তারপরও একটা উপলব্ধি তো ঠিকই আছে। সেটা হলো তিন বছর আগের আমির চেয়ে বর্তমানের আমিটা খুব বেশি বদলাইনি। এখন হয়তো আয়রোজগার আগের চেয়ে ভালো। বড় বড় মানুষদের সাথে নিত্য চলাফেরা। আমি হয়তো আগের চেয়ে গভীর করে চিন্তা করতে পারি। বাবার সাথে কথা বলতে পারি। তারপরও মনে হয় বদলাইনি। এই না বদলাতে পারার অনুভূতিটার বিশেষ কারণ আছে। যা আমি এখানে লেখে বলতে পারবো না।

এই লেখাটা শেষ পর্যন্ত এলোমেলো কিছু ভাবনা এবং বাক্যের সমষ্টি ছাড়া আর কিছু না। কেউ এই লেখাটা পড়ে ফেললে চিন্তার কোনো উপাদান পাবে না। এটা আসলে কোনো লেখাই না‍! কয়েকদিনের জড়তা ঝেরে ফেলে আবার লেখায় ফেরার চেষ্টা মাত্র। আজ থেকে নিয়মিত এই ব্লগের এই বিভাগটা চালিয়ে যাবো। বছর কয়েক পরে হয়তো এগুলো পড়ে বুঝতে পারবো কেমন ছিলাম আগে! তখন হয়তো হিসেব-টিসেব নিয়ে বসলে যুক্তিসঙ্গত একটা ফলাফলও বের হবে!

Leave a Reply