আমার খুব ফিরে যেতে ইচ্ছে করে

১৬ মার্চ, ২০১৩
ডিওএইচএস, মহাখালি

বাসে জানলার পাশের সীট
চিরদিনের জন্য খালি হয়ে গেছে।
বাইরে থেকে আসা বাতাসে পাশে বসা
প্রিয়তমার চুল আমার নাকে মুখে লাগছে,
সে চুলের মিষ্টি ঘ্রাণে তার কাঁধে মাথা রেখে
আমি ঘুমিয়ে পড়ছি;
এ তাই অলিক কল্পণা।

তবে বাতাস আসে ঠিকই। বড় পরিচিত
এ বাতাস। যা আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়
ফেলে আসা হাফ প্যান্ট পড়া কৈশরে-

পলিথিনের ব্যাগে ভরা আমার বড় ওয়ানের
বই, কলম দিয়ে গলার সাথে জড়িয়ে
পিঠে করে নিয়ে আমি স্কুলে যেতাম।
আমার গ্রাম থেকে তখন বহুদূরের পথ
ভবানীপুরের প্রাইমারী স্কুল।
পাকা রাস্তা আর চার সীটের রিকশায়
সে পথ এখন সংকীর্ণ হয়ে গেছে।
যুগের আধুনিকতা রাবারের মতো টেনে টুনে
ছোট করে ফেলছে সব। রাস্তা ঘাট- জামা কাপড়।
শহরের রাস্তায় জানলার বাতাসে
শহুরে রাধিকাদের পারফিউমের গন্ধ।
এ বাতাসে আমার শৈশবের
ধূলোর অস্তিত্ব নেই। এ বাতাস আমার
ভালো লাগেনা। আমার বরং ফিরে যেতে
ইচ্ছে করে শৈশবের নরম দিনে,
যেখানে প্রিয়তমাকে হারানোর কলজে ছেঁচা
যন্ত্রণা নেই, জানলার গ্রীল ধরে
অহেতুক আকাশ দেখার ভয়ানক একাকিত্ব
নেই…

আমার খুব ফিরে যেতে ইচ্ছে করে…

Leave a Reply