এমন হলে কেমন হবে?

ধরো আধো অন্ধকার আর আধো আলোয় মাখামাখি করা সন্ধ্যার বুক চিড়ে চলে গেছে একটা সরু গলি। যে গলি দিয়ে দুইটা রিকশা একসঙ্গে চলতে পারে না। ঠিক এ রকম একটা গলি বেয়ে ভিতরে ঢুকে গেলাম আমরা। যেখানে আধো আলো আর আধো অন্ধকার মাখামাখি করে চলছে।

রিকশাটা হেলে দুলে আমাদের নিয়ে এগোতে থাকে। গলির পথ, কোথাও কোথাও ভাঙা থাকা খুব জরুরি যেনো। ভাঙা জায়গাগুলোতে এসে পৃথিবীটা যেনো কেঁপে ওঠে। অন্তত রিকশায় বসে এমনই হয়।

প্রতিবার কাঁপাকাঁপির সময় তুমি যতোটা সম্ভব দূরত্ব রেখে কাঁপো। আর আমি সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তবুও, বড় কষ্টে আমার আর তোমার মাঝখানে জায়গা করে নেয় একটু ফাঁকা। যা শেষ পর্যন্ত আমরা পেরিয়ে যেতে পারি না।

এই রকম একটা রিকশা ভ্রমণের গল্প বলতে ইচ্ছে করে তোমাকে। যে গল্পে আসলে তুমি থাকো না। থাকে অন্য কেউ। যে গল্পে আসলে আমি থাকি না। আমার হয়ে নায়কের ভূমিকা নেয় অন্য কেউ।

রিকশাটা এগোতে থাকে। মাঝে মাঝে পুরো দুনিয়া কেঁপে উঠে একসঙ্গে। শেষ পর্যন্ত রিকশাটা পৌঁছায় না কোথাও। গলির মুখে তৈরি হয় নতুন গলি। রিকশাটা চলতে থাকে নতুন গলি বেয়ে। যেখানে আলোরা কমে আসতে থাকে ক্রমেই। বাড়তে থাকে অন্ধকার। বাড়তে থাকে অন্ধকারের গাঢ়তা।

একটা সময় রিকশাটা থেমে যায় আর চাকার নিচ দিয়ে চলে যেতে থাকে একটার পর একটা গলি। আঁকাবাঁকা কোনোটা। কোনোটা সরল রেখার মতো।

এই রকম একটা গল্প বলতে ইচ্ছে করে তোমাকে। যে গল্প শুনতে শুনতে তুমি গা এলিয়ে দিবে আমার কাঁধে। ঘুমিয়ে পড়বে অজান্তে। আজকাল অবশ্য প্রশান্তি নিয়ে এমন ঘুম আর আসে না, যা অজান্তে চোখের পাতাজোড়াকে বন্ধ করে দিতে পারে।

ধরো তারপরও একদিন সত্যি সত্যি প্রশান্তি এলো, ঘুমের পোশাক পরে। জড়িয়ে গেলো তোমার চোখে। আমি গল্প বলতে থাকলাম। তুমি তার অর্থ খুঁজতে খুঁজতে ঘুমিয়ে পড়লে আমার কাঁধে। তারপর কাঁধ বেয়ে ছড়িয়ে পড়লে আমার সারা গায়ে, কেমন হবে এমন হলে?

Leave a Reply