ওয়াকার ইউনুস: বাংলাদেশের পেসাররা দুর্দান্ত

নিজের সময়ে ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার। ওয়াসিম আকরাম আর তার জুটিকে একনামে ডাকা হতো ‘টু ডব্লিউ’ নামে। সময়ের ভেলায় চড়ে সেই ওয়াকার ইউনুসই এখন পাকিস্তান দলের কোচ। নিজের সময়ে পাকিস্তান যে রকম প্রতাপশালী ছিল, এখন আর তা নয়। নিজে পেসার ছিলেন বলে নতুন প্রজন্মের পেসারদের প্রতি দারুণভাবে ভরসা করেন ওয়াকার। স্বপ্ন দেখেন পেসারদের পুরনো দাপট আবারো দেখা যাবে ক্রিকেটে। এশিয়া কাপে পাকিস্তান দলের কোচ হিসেবে ওয়াকার বর্তমানে অবস্থান করছেন ঢাকায়। এশিয়া কাপ ২০১৬-এর সময় হোটেল লা মেরিডিয়ানে সাইফ হাসনাত-এর সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন তিনি।

প্রশ্ন: ক্রিকেট ক্রমশই ঝুঁকে পড়ছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের দিকে। এশিয়া কাপ আগে হতো ওয়ানডে ফরম্যাটে। কিন্তু এবারের ফরম্যাট টি-টোয়েন্টি। এই এশিয়া কাপে আপনার দলের চ্যালেঞ্জ কেমন?

দেখুন, আধুনিক ক্রিকেটে প্রতিটি টুর্নামেন্টই চ্যালেঞ্জিং। ওয়ানডে ফরম্যাটে থাকতে এশিয়া কাপ খুব চ্যালেঞ্জিং টুর্নামেন্ট ছিল। ফরম্যাট বদলে এখন টি-টোয়েন্টি হয়ে গেছে। তারপরও চ্যালেঞ্জটা আগের মতোই। এশিয়া কাপের পরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আমি তাই মনে করি এশিয়ান দলগুলোর জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে এই টুর্নামেন্ট দারুণ ভূমিকা রাখবে। আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলে ছেলেরা দারুণ ছন্দে আছে। সব মিলিয়ে আশা করছি এবার আমরা ভালো কিছু করতে পারব।

প্রশ্ন: আইপিএলের কল্যাণে ভারতীয় ক্রিকেট অবিশ্বাস্য উন্নতি করেছে। বিপিএলের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে। পিএসএলও কি পাকিস্তানের জন্য সে রকম হবে?

পিএসএল তো মাত্র শুরু হলো। সুতরাং এখনই এটা বলার সুযোগ আসেনি যে, পিএসএল পাকিস্তান ক্রিকেটকে অনেক উপকার করবে। তবে শুরুটা তো ভালো হলো। পুরো আয়োজন নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। তরুণ ক্রিকেটাররা বড় পরিসরে খেলার সুযোগ পেয়েছে। আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ব্যবহার করেছে। আমি মনে করি, পিএসএল খেলে তরুণরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার এবং অনেক দর্শকের সামনে পারফর্ম আত্মবিশ্বাস পেয়েছে। পিএসএলের প্রভাবটা এ বছর হয়তো দেখা যাবে না। তবে ভবিষ্যতে ঠিকই কাজে লাগবে।

প্রশ্ন: পাকিস্তান সব সময়ই টি-টোয়েন্টিতে বড় দল। কিন্তু ২০০৯ সালের পর আর কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য নেই। এ ব্যাপারটা কিভাবে দেখছেন?

আমার মনে হয় এ সময়টাতে আমরা ভালো খেলিনি, তাই জিততেও পারিনি! তবে এটা সত্য পাকিস্তান টি-টোয়েন্টিতে সব সময়ই ভালো দল। এবারের এশিয়া কাপ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ আসর। খেলোয়াড়রা ভালো ছন্দে আছে। দেখা যাক কী হয়!

প্রশ্ন: আপনি বলছিলেন যে, এশিয়া কাপের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতিটা হয়ে যাবে। সেটা কিভাবে?

বাংলাদেশের কন্ডিশন অনেকটা ভারতের মতোই। দুই দেশের আবহাওয়া-উইকেট প্রায় এক রকম। সুতরাং এখানে খেলে আমাদের এবং অন্য দলগুলোর প্রস্তুতি খুবই ভালো হবে। বিশেষ করে সারজিল, খুররম মনজুরের মতো তরুণরা আছে, এরা খুব ভালোভাবে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে পারবে। এ দিকে মোহাম্মদ সামি ফিরেছে, তারও প্রস্তুতি ভালো হবে। আফ্রিদি বোধহয় তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচগুলো খেলছে। সেও এই টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করতে চাইবে।

প্রশ্ন: মোহাম্মদ আমিরের ফেরা নিয়ে সম্প্রতি বিরাট কোহলি বলেছেন যে, আমির যদি নিষেধাজ্ঞায় না পড়ত, তাহলে সি বিশ্বের সেরা তিন বোলারের একজন হতো। কোচ হিসেবে তার ফেরাটা এবং তার পারফরম্যান্স কিভাবে মূল্যায়ন করছেন?

আমির অসাধারণ প্রতিভাবান। কিন্তু দুঃখজনকভাবে গত পাঁচটা বছর সে ক্রিকেটের বাইরে ছিল। সে এখন ভালো করার জন্য ক্ষুধার্ত হয়ে আছে। এশিয়া কাপে তো বটেই, বিশ্বকাপেও দারুণ কিছু করার জন্য মুখিয়ে আছে আমির। এটা পাকিস্তানের জন্য খুবই আনন্দের বিষয়।

প্রশ্ন: এবার বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কিছু বলুন; সম্প্রতি বাংলাদেশের পেসাররা বেশ ভালো পারফর্ম করছে। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্মের পর দেশের মাটিতে ভারতের মতো দলের বিপক্ষে চার পেসার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। অথচ ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের প্রধান শক্তি স্পিন। এই পরিবর্তনটা কি আপনি লক্ষ্য করেছেন?

বাংলাদেশের একঝাঁক দুর্দান্ত পেসার আছে। তারা ভালোও করছে, কোনো সন্দেহ নেই। খুব গভীরভাবে তাদেরকে দেখার সুযোগ অবশ্য হয়নি। তবে আমরা সবাই জানি তারা দারুণ কিছু করে দেখানোর ক্ষমতা রাখে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের পেসাররা সত্যিই খুব ভালো। কারণ তারা কন্ডিশন- উইকেট খুব ভালো করে চিনে। বাংলাদেশের পেসাররা সীমিত ওভারে বেশি কার্যকর। গতকাল (২৪ ফেব্রুয়ারি) তাদের খেলা দেখেছি। শুরুর দিকে তারা দারুণ কিছু ঝলক দেখিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে শেষটা ভালো করতে পারেনি। বাংলাদেশি পেসারদের বিপক্ষে আমরা সতর্ক থাকব।

প্রশ্ন: এশিয়া কাপে আবার দেখা যাবে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট যুদ্ধ। আপনার সময়ে দেখা গেছে পাকিস্তান বেশিরভাগ ম্যাচ জিতেছে। কিন্তু গত দুই-তিন বছরে পরিস্থিতি বদলে গেছে। পুরো বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

পাকিস্তান-ভারতের খেলা সব সময়ই বিরাট কিছু। সেটা যেখানেই হোক না কেন। ভারত খুব ভালো দল। আমি মনে করি আইপিএল তাদের দলকে উঁচু পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এ কারণেই পিএসএল আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে ভালো কিছু খেলোয়াড় উঠে আসছে। আর ভারতের বিপক্ষে আগে কী হয়েছে, সেটা আমরা জানি। এশিয়া কাপে তাদের বিপক্ষে খেলতে আমরা মুখিয়ে আছি। আশা করি এবার আমরা জিততে পারব।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আবার আসি। ওয়ানডেতে ভালো খেললেও বাংলাদেশ সেভাবে টি-টোয়েন্টিতে পারছে না। একজন কোচ হিসেবে কোথায় সমস্যা দেখেন?

এটা তো আমি বলতে পারব না। তবে বাংলাদেশ ভালো দল।

 

মূল লেখাটি  মানবকণ্ঠে ছিলো। তাদের সার্ভার পরিবর্তনের কারণে লেখাটি আর মানবকণ্ঠের অনলাইনে পাওয়া যায় না। 

Leave a Reply