কেনো এতো মনে পড়ে

মনে পড়ার তীব্রতা মাপার যন্ত্র আছে কি?

থাকলে, আজকাল তোমাকে ঠিক কতোটা মনে পড়ছে, তা মেপে দেখা যেতো। সত্যি বলছি, গত কয়েকটা দিন ধরে প্রতিটি মুহূর্তে মনের পুরো জায়গা দখল করে আছো। কেনো? তুমি ভালো আছো তো? দিনকাল সব ঠিকঠাক আছে তো?

ছোটবেলায় বিটিভিতে বাংলা ছবি দেখতাম। তুমিও দেখতে। আমাদের ছোটবেলাটা নিশ্চয় এক রকম ছিলো না। আমি হোস্টেল থেকে হোস্টেলে ঘুরে ঘুরে বড় হয়েছি। তুমি বড় হয়েছো মায়ের কোলে, খালাদের আদরে, বাবার আহ্লাদে। মায়ের কোল, খালাদের আদর আর বাবার আহ্লাদ আমারও ছিলো। কিন্তু হোস্টেলে পড়তে হয়েছে আমাকে। তাই তাদের খুব কাছাকাছি থাকার সুযোগ কম পেয়েছি।

ছোটবেলাটা একরকম না হলেও শুক্রবার এলে ঠিকই সমান্তরাল হতাম আমরা। ত্রিপিটক পাঠের পর বিটিভিতে নিশ্চয় একসাথে সাদাকালো ছবি দেখেছি আমরা। তুমি আমি সেই ছোটবেলা থেকেই একসাথে মিশতাম কিভাবে, দেখেছো!

তো ছোটবেলায় দেখা বিটিভির ছবিতে দেখা যেতো, দূরে কোথাও নায়ক কষ্ট পড়েছে; দূরে থেকেও নায়কের মা তা টের পাচ্ছে। কিংবা দূরে কোথাও নায়ক বিপদে পড়েছে, দূরে থেকে নায়িকার যন্ত্রণা হচ্ছে। কিংবা নায়িকার কোনো কারণে যন্ত্রণা হচ্ছে, দেখা যেতো সেই যন্ত্রণায় কষ্ট হচ্ছে নায়কেরও।

গত কয়েক দিনে তোমাকে কেনো পড়ছে জানি না, তোমার জীবনে কোনো কষ্টও আসেনি; তারপরও এতোটা কেনো পড়ছে কে জানে!
আমি অবশ্য নায়ক না, তুমিও আমার নায়িকা নও; তোমাকে মনে পড়াটা তাই স্রেফ পরিচয়ের গভীরতা থেকে। তাই ই হয়তো হবে। যেখানেই থাকো, আল্লাহ তোমাকে ভালো রাখুন। বিত্ত বৈভবে ফুলে ফেপে উঠুক তোমার সময়…

Leave a Reply