বিজয়ের বয়স হলো ৪২

২০১৩ সাল, ১৬ ডিসেম্বর; বাংলাদেশের বিজয়ের বয়স বেড়ে ৪২ হলো। চার দশকের পথ পরিক্রমা পার করলো প্রাণের বাংলাদেশ। সামনে পড়ে আছে আরো বহু দূরত্বের পথ। পড়ে আছে অনেক অনেক অপূর্ণ স্বপ্ন। পড়ে আছে হাজার মুহুর্ত, যা বয়ে আনবে আরো বহু বিজয়, বহু গর্বের বারতা।

গত ৪২ বছরের দিনগুরো স্মরণ করতে ইচ্ছে করে আজ। কিন্তু আসলেই কি স্মরণীয় কিছু আছে? চোখ বন্ধ করে একটা মিনিট ভাবলে তো কেবল ভুলে যাওয়ার মতোই উপলক্ষ্য পাই! এটা কি আপনার ভাবনার ব্যর্থতা? নাকি আসলেই আমার বাংলাদেশের কপালে আজকে স্মরণ করার মতো কোনো সৌভাগ্য-তিলক জুটেনি?

Bangladesh লেখে গুগলে সার্চ দিয়ে দেখেন কী আসে। ক্লিক করুন।

এ প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই। আমি মধ্যরাতের টকশো’বাজ নই। খুব বেশি কথা বলায়ও বিশ্বাস নেই আমার। আমি মনে করি, কাজে যে পিছিয়ে পড়ে, কথা বলে তার এগিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দেশের জন্য গত ৪২ বছরে আসলেই কিছু করতে পারিনি আমরা। অন্তত যা করার কথা ছিলো তা পারিনি। বিচ্ছিন্নভাবে যাও করেছি, তা স্মরণ  করার মতো কিছুই নয়।

গত চার দশকে পুরো জাতিকে উৎসবে মাতিয়ে তোলার হাতে গোনা কয়েকটি উপলক্ষ্য এসেছে শুধুমাত্র খেলাধুলার মাঠে। আর এসেছে ড. ইউনুসের নোবেল বিজয়ে। আর কই? ৪২টি বছর লাগলো মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি গৌরব লাভ করতে?

১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা এক সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলাম। এখন, এই ২০১৩ সালে এসেও আমাদের সেই একই স্বপ্ন। এখনো আমাদের নানা সংশয় নিয়ে বলতে হয়, আমাদের দেশ একদিন এইটা হবে, ওইটা হবে।

কোনোদিন আমরা এর উত্তর খুঁজিনি। সাহসই হয়নি আমাদের। নিম্নমানের রাজনীতি চর্চাই আমাদের ব্যর্থতার এক নম্বর কারণ। সেই সাথে আছে চোখ বন্ধ করা ‘চামচামী’; যা করেছি বিদেশি প্রভুদের পা চাটতে গিয়ে। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বিদেশি বন্ধুদের কোটি টাকা খরচ করে আমরা নানা উপঢৌকন দিয়েছি। কিন্তু দেশের সীমানায়ও যে এমন মুক্তিযোদ্ধা আছেন, যিনি তিনবেলা পেটভরে খাবার খাওয়ার নিশ্চয়তা পান না, তা আমরা ভুলে গেছি বেমালুম। দেশপ্রেমের কোনো প্রকৃত উদাহরণ আমরা রাখতে পারিনি।

৪২ বছরের ইতিহাস আজ টানার দরকার নেই। জানিও না। জানতে চাইও-নি। রাজনীতির নোংরামি, আর মেধাবীদের লেজুরবৃত্তি যতোদিন না থামবে, ততোদিন এই দেশের কপালে কিছু নেই।

সুদিনের প্রত্যাশায় বসি আজও…

Leave a Reply