মিসিং ইউ, আমার প্রথম সুপার হিউম্যান

আশুলিয়া, ঢাকা 
সময় বড় তিক্ত সত্যের স্বাদ আস্বাদন করায়। যে তিক্ততার বিপরীত কোনো স্বাদ নেই। সময় মানুষকে কখনো কখনো বড্ড অসহায় করে দেয়। যে অসহায়ত্ব থেকে মুক্তির কোনো পথ নেই।

গত ২৬ বছরে আমার সব আনন্দ-বেদনা, ব্যক্তিগত দুঃখ-বিরহের সবচেয়ে বড় ভাগিদার ছিলেন আমার দাদী। ডাকতাম বুজি বলে। বলতে হচ্ছে ‘ছিলেন’ ‘ডাকতাম’; মানে সব এখন অতীতকাল। বুজি ছিলেন আমার জীবনের প্রথম ‘সুপার হিউম্যান’। আমি যেভাবে কথা বলি, তা তাঁর কাছ থেকে শেখা। আমি যেভাবে ভাত খাই, ভাত মাখাই; তাঁর কাছ থেকে শেখা।

বুজির প্রথম নাতি ছিলাম বলে মার চেয়ে বুজিই ছিলেন আমার বেশি কাছের। এমনও হয়েছে, আমি কোনো যন্ত্রণায় ভুগছি; মা বোঝার আগে বুজি জেনে যেতেন। শৈশব- কৈশরে আমি মা বা আব্বার কাছে কিছু চাইনি। সব আবদার ছিলো বুজি আর দাদার কাছে। দাদা এখনো আছেন। বুজি চলে গেলেন গত ৩০ তারিখ। আমি তখন অসুস্থ, বিছানায় পড়া।

খেলতে গিয়ে আমার কখনো একটু কেটে গেলেও সেটা বুজির নজর এড়াতো না। এবার আমি জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে বাড়ি ফিরলাম। বুজি সেটা জানলেনই না। ব্যান্ডেজ করা ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে বুজির পাশে বসলাম। বুজি চিনতেই পারলেন না আমাকে। বুজির সঙ্গে জীবনের সব সম্পর্ক ততোদিনে শেষ। একদিন খুব ক্ষীণ স্বরে কেবল বললেন, সব ঠিক হয়ে যাবে।

আসলেই সব ঠিক হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। কিন্তু বুজি না থাকার শূন্যতাটা চিরকালিন ব্যাপার। যতো দিন যাবে তা কেবল বাড়বে। বাড়তেই থাকবে। বাড়িতে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠার পর বুঝতে পারি, কতো বড় শূন্যতা ভর করেছে এখানে। সময় বড় নিষ্ঠুর। বড়ই নিষ্ঠুর। মিসিং ইউ বুজি…

Leave a Reply