মুশফিক বিরক্ত, হতাশও

দলের একের পর এক ব্যর্থতা, সাফল্যের খুব কাছে গিয়ে ধ্বসে পড়া। ব্যর্থতার এক দৃশ্যের বারবার চিত্রায়ন; অধিনায়কের কি মন ভালো থাকে? কখনোই না। মুশফিকের তাই মন ভালো নেই। দলের উপর প্রচণ্ড রকম বিরক্ত তিনি। ব্যাটসম্যানদের পারফর্মে গভীর হতাশাও ভর করেছে মুশফিকের মনে। সেন্ট লুসিয়া টেস্টে ২৬৯ রানের বিশাল পরাজয়ের পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে হতাশার কথা আর লুকিয়ে রাখতে পারেননি বাংলাদেশের অধিনায়ক। অকপটে বলে দিয়েছেন নিজের কথা। জানিয়েছেন এভাবে চলে না। প্রয়োজনে দলে বড় পরিবর্তন আনলেও তিনি আপত্তি করবেন না বলেও মন্তব্য করেছেন।

ওয়ানডে সিরিজের তিনটি ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। অথচ সিরিজ শুরুর আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে দারুণ এক জয় ইঙ্গিত দিচ্ছিলো অন্য কিছুর। মনে হয়েছিলো ২০১৪ সাল যে অপয়া সময় নিয়ে এসেছে, তার অবসান বোধহয় এই সিরিজেই হয়ে যাবে। কিন্তু আসলে তা হয়নি, প্রস্তুতি ম্যাচের জয়ের আনন্দ ফিরে আসেনি মূল খেলায়। টানা তিন ম্যাচ হেরে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও জয় ছিনিয়ে নিতে পারেননি মুশফিকরা। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা, প্রয়োজনের সময় অধিনায়কের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা ডুবিয়েছে বাংলাদেশকে। এ বছর ১৩টি ওয়ানডে খেলা হয়ে গেলেও জয় জোটেনি বাংলাদেশের। উল্টো এশিয়া কাপে হারতে হয় আফগানিস্তানের মতো ক্রিকেট-ধারাপাত শেখা দলের কাছে। এ বছরটা যেনো পণ করেই এসেছে; কিছুতেই জিততে দিবে না বাংলাদেশকে!

ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর আত্মবিশ্বাস ফেরানোর উপলক্ষ্য হয়ে এসেছিলো একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বৃষ্টি ওই ম্যাচটিও ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। পরে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে আবার কিছুটা হলেও আশার আলো ছড়িয়েছিলো ব্যাটিং। নাসির ও মুশফিকের সেঞ্চুরি জানান দিচ্ছিলো, টেস্টে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। কিন্তু টেস্টে ভুল হয়ে গেলো টস জয়ের পরই। ব্যাটিং বান্ধব উইকেটে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন মুশফিক। ফল যা হওয়ার তাই। রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ১৮২ রানে গুটিয়ে দিলো স্বাগতিকরা। ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীনতা, খামখেয়ালিপনা ডুবালো দলকে। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকের সেঞ্চুরিতে তিনশ’র বেশি রান উঠলো বটে, কিন্তু বড় হার থেকে বাঁচাতে পারলো না।

স্রোতের বিপরিতে একাধিকবার একাই দাঁড়িয়েছেন মুশফিক। কিন্তু সঙ্গ দেবার মতো পাননি কাউকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দলের উপর ত্যক্ত-বিরক্ত হয়েছেন তিনি। প্রথম টেস্ট শেষে প্রকাশ্যে ব্যাটসম্যানদের উপর ক্ষোভও ঝেড়েছেন মুশফিক। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সেন্ট লুসিয়া টেস্টের দুই ইনিংসে টানা দুইবার অন্তত দুইশ’ রান করতে ব্যর্থ হয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। স্বাভাবিকভাবেই মুশফিকের বিরক্তি গেছে বেড়ে। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে তাই আশার বাণী শোনার মতো কোনো বাক্যই ছিলো না তার কাছে।

আগামী মাসে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে মুশফিদের। তার আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় লড়তে হবে এশিয়ান গেমসের সোনা ধরে রাখার জন্য। ব্যক্তিগত কারণে মুশফিক নিজে থাকতে পারবেন না এশিয়াডে। এই সময়ে দল কি পারবে জয়ের ধারায় ফিরতে? যদি না পারে তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে পেতে হবে চরম লজ্জা। তখন নিশ্চয় মুশফিকের মন আরো বেশি খারাপ হবে। যা অবধারিতভাবে ছড়িয়ে পড়বে ক্রিকেটপাগল দেশবাসীর মনেও। এরপর যদি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা ক্রিকেট সমর্থন হারায়, তবে এর দায় কে নিবে?

মূল লেখা প্রিয়.কমে। ক্লিক করুন।

Leave a Reply