সন্ধার বিষাদ

কদিন ধরে দুপুরে ঘুমোনোর চেষ্টা করছিলাম। কাজের চাপ একটু কম থাকার কারণে এই ফুরসতটা মিলেছে। দুপুর দুইটা বাজলেই তাই চোখ ঘুমে ঢুলুঢুলু করে উঠে এখন। কিন্তু গত দুদিন ধরে আবার কাজের চাপ বেড়েছে। ফলে ঘুমে চোখ লাল হয়ে উঠলেও ঘুমানোর সুযোগ মিলে না। আজ হঠাত করেই সব কাজ ফেলে ঘুমোতে গিয়েছিলাম। শুয়ে পড়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই পৃথিবীর সব ঘুম মনে হয় ভর করেছিলো আমার চোখে। টানা চার ঘণ্টা ঘুমিয়েছি। ঘুম থেকে উঠতে উঠতে সন্ধা। অফিসের আসার তাড়া ছিলো। চলে আসলাম অফিসে।
অবেলার ঘুম ভাঙ্গার পর ভালো লাগে না। পৃথিবীটাকে খুব অচেনা লাগে। সন্ধা আমার সবচেয়ে প্রিয় সময়। সন্ধা হলে মন মেজাজে অদ্ভুত এক বিষন্নতা কাজ করে। আজও সে রকম। একটু বরং বেশিই। কারণ আজ বিকেলের শেষে তুমুল বৃষ্টি হয়েছে। রাস্তা ঘাট দেখে বুঝতে পেরেছি। বৃষ্টির সন্ধা অসম্ভব প্রিয় আমার। সন্ধায় আজ বৃষ্টি পড়তে দেখতে পারিনি। মনটা খারাপ।

মন খারাপ মানে তোমার কথা মনে পড়ার যন্ত্রণা। এমন কোনো বৃষ্টির সন্ধায় তুমি আমি কখনো এক সাথে থেকেছি কি? মনে পড়ে কিছু? তোমার মনে পড়ার কথা প্রথমবার তুমি আমার ঘরে ঢুকেছিলো এমনই বৃষ্টির একটা সন্ধায়। শাহানার আমার নিশীথ রাতের বাদলধারা শুনছিলাম আমরা। মনে পড়ছে?

সময়ের মহাস্রোতে ভেসে তুমি আমি এখন দুই ভিন্ন জগতে বাস করি। আমাদের মধ্যকার দূরত্ব আর মোচন হবে না কোনোদিন। সৃষ্টিকর্তা এমনই পরিণতি লেখে রেখেছিলেন আমাদের জন্য। তাঁর লেখার বাইরে তো একটা পা-ও বাড়ানো যায় না। যায় না বলেই আমাকে দেখার ইচ্ছে জাগে না তোমার। আমার জাগে। কিন্তু দাঁতে দাঁত চেপে ভুলে থাকা শিখে ফেলার পর আমিও আর তোমাকে খুঁজি না। নিজেই নিজেকে নিয়ে বাঁচি। কী আর করবো বলো।

সুযোগ পেলে সারাদিন ঘুমোনোর একটা চেষ্টা করে দেখবো। ঘুম ভাঙলেই মন খারাপ থাকে। মন খারাপ থাকলেই তোমাকে মনে পড়ে। তোমাকে মনে পড়া মানে গভীরতর বিষাদ।

Leave a Reply