হঠাৎ বড় বিপন্ন লাগছে

হঠাৎ বড় বিপন্ন লাগছে। বিক্ষিপ্ত লাগছে।

অজস্র শব্দ পাখির মতো ওড়ে। পোকার মতো কিলবিল করে। চাইলে এগুলো গুছিয়ে লেখে ফেলা যায় কিছু। কিন্তু আমার ঠিক লেখার কথা না এখন। ভাবার কথা না এখন। আমার আসলে এখন কিছুই করার কথা। বেঘোরে ঘুমানোর কথা। এই কথাটা আপাতত রাখার উপায় নেই। পোকাগুলো বেরসিক খুব।

শব্দপোকার দল খাবলে খাচ্ছে পৃথিবী। এই শব্দগুলোর শরীরজুড়ে অগণন স্মৃতির অস্তিত্ব। স্মৃতি-টৃতি নিয়ে নাড়ানাড়ি করতে ইচ্ছে করে না। এই ইচ্ছেটা পূরণ করতে তুমুল শক্তির দরকার হয়। সেটা নেই। একটু একটু করে, ধীরে ধীরে ক্ষয়ে গেছে।

সুতরাং আমি বোকার মতো দুর্বল হয়ে গেছি এবং স্মৃতি-টৃতি ধরে নাড়ানাড়ি করার কাজটা করে ফেলছি। চরম অনীহার পরও। এই অন্তর্জালে তোমার মুখ ভেসে বেড়ায়। সার্চবক্সে একদম ভুল করে এবং অলস সময়ের ফাঁদে পড়ে লেখে ফেলেছিলাম তোমার নাম। পাপটা হয়ে গেছে তখনই। শেষ শক্তিটুকু সিগারেটের শেষ ছাইয়ের মতো খসে পড়ে গেছে। আমি এখন শক্তিহীন। স্মৃতি নিয়ে নাড়ানাড়ি করার ছেলা মানুষিটা দমিয়ে রাখতে পারলাম না।

শক্তিহীন একজন মানুষের স্মৃতির চোরবালিতে পা ফেলা নিছক বোকামি। এই মুহূর্তে আমি বড্ড বোকা এব নির্বোধ। আমার বোকামী ও বোধহীনতা একটু বেশি মাত্রায়ই হাস্যকর। আমি স্তব্ধ হয়ে শব্দগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি। শব্দপোকার কামড় সহ্য করি। দাঁতে দাঁত চেপে ধরে কান্না আটকে রাখি এবং এভাবেই একটা নতুন আমির জন্মের প্রয়োজন বোধ করি।

হঠাৎ বড় বিপন্ন লাগছে। বিক্ষিপ্ত লাগছে। স্মৃতির নুড়িপাথরগুলো বুলেটের মতো বিঁধছে বুকে। এই স্মৃতি-টৃতি বড় কষ্টকর। বড় যন্ত্রণাময়। লেখলে যদি হালকা লাগে কিছু, তাই এই লেখাজোকা। তাতে কাজ হবে কি? কে জানে!

Leave a Reply