‘কোহলির সঙ্গে তুলনা পছন্দ নয়, আমার অনুপ্রেরণা ডি ভিলিয়ার্স’

ওয়ানডে ও টেস্ট অভিষেকেই হাঁকিয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকে না পারলেও পরের ইনিংসেই ছুঁয়েছেন পঞ্চাশের ঘর। বাবর আজম যে বড় কিছু করতেই এসেছেন, তা বোঝা গিয়েছিলো তখনই। ১৬তম ওয়ানডেতে এসে পেয়েছেন প্রথম সেঞ্চুরি। ১৭ ও ১৮তম ওয়ানডেতেও ছুঁয়েছেন তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার; মানে টানা তিন ম্যাচে সেঞ্চুরি করে গড়েছেন হ্যাটট্রিকের নজির। ৩৬ ওয়ানডে খেলার পর তার নামের পাশে বসেছে সাত সাতটি সেঞ্চুরি। বাবরকে প্রায়ই তুলনা করা হয় বিরাট কোহলির সঙ্গে। বিপিএল ২০১৭ চলার সময় নিলাম পাকিস্তানের প্রতিভাবান এই ব্যাটসম্যানের ইন্টারভিউ।

আপনার দল তো শেষ চারে যেতে পারলো না। তারপরও সব মিলিয়ে বিপিএল কতোটা উপভোগ্য হচ্ছে? বাংলাদেশে কেমন লাগছে?

খুব ভালো লাগছে। এখানে সিলেট সিক্সার্সের হয়ে খেলছি। দলের সবাই খুব বন্ধুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্থানীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করতে পারাটা দারুণ মজার ব্যাপার। সব মিলিয়ে বিপিএল দারুণ যাচ্ছে এবং বাংলাদেশে খুব ভালো আছি। দল যদি শেষ চারে কোয়ালিফাই করতো, তাহলে আরো ভালো লাগতো।

স্থানীয়দের কেমন দেখছেন?

স্থানীয়দের মধ্যে নাসির ভাই ও সাব্বির রহমান বর্তমান জাতীয় দলে খেলে। তাদের সঙ্গে থাকতে পারা, একই ড্রেসিংরুম শেয়ার করা দারুণ ব্যাপার। তারা দুজনই খুব ভালো পারফর্মার। বিশেষ করে সাব্বির খুবই ভালো পারফর্ম করছে।

সাব্বিরকে তো আপনার আগে থেকেই চেনার কথা। ২০১২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তাকে সম্ভবত প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছিলেন?

জ্বি। সাব্বিরকে তখন থেকেই চিনি। ওই বিশ্বকাপে আমি পাকিস্তানের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলাম। (ছয় ম্যাচে এক সেঞ্চুরিতে ২৮৭ রান। এনামুল হক বিজয় ছয় ম্যাচে দুই সেঞ্চুরিতে ৩৬৫ রান)।

নাসিরের অধিনায়কত্ব বিষয়ে কী বলবেন? বিপিএলের সিলেট পর্বে তো তার অধিনায়কত্ব দুর্দান্ত ছিলো। পরে যদিও কিছুটা ম্লান হয়ে গেছেন তিনি।

নাসির ভাই অধিনায়ক হিসেবে খুবই শান্ত এবং খেলোয়াড়সূলভ মানসিকতার। তার অধিনায়কত্বে খেলতে পারাটা আনন্দের ব্যাপার। খুব উপভোগ করছি।

আপনি পিএসএলও খেলেন। বিপিএল ও পিএসএল দুটিই উপমহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দুটি লিগ। দুই লিগের মধ্যে কী ধরনের পার্থক্য দেখেন?

সত্যি কথা বলতে পিএসএলের চেয়ে বিপিএলে খুব বেশি পার্থক্য দেখি না। প্রায় একই রকম সব কিছু। এবার বিপিএলে অনেক বেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার এসেছে। এ জন্য বিপিএলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব ভালো হচ্ছে, কঠিন ক্রিকেট হচ্ছে। আর কঠিন ক্রিকেট খেলতেই আমি বেশি পছন্দ করি।

কঠিন ক্রিকেট কেনো পছন্দ করেন, সেটা পরে শুনবো। তার আগে আপনার ক্রিকেটার হিসেবে বেড়ে উঠার গল্পটা বলুন।

খুব ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ঝোঁক ছিলো। গলির ক্রিকেট খেলেছি প্রচুর। এরপর লাহোরের একটা ক্লাবে খেলা শুরু করি। সেখান থেকে অনূর্ধ্ব-১৬ এবং তারপর অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলে খেলেছি। ২০১০ ও ২০১২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খুব ভালো খেলি। এভাবেই কঠোর পরিশ্রম করে জাতীয় দলে সুযোগ পাই।

আর কঠিন খেলা কেনো পছন্দ করেন? সবাই তো সহজে জিততে চায়! আপনাকে এ জন্য অনুপ্রেরণা দেন কে?

আমি আসলে এবি ডি ভিলিয়ার্সকে ফলো করি। তার ব্যাটিং দেখে অনেক কিছু শিখি। শুরু থেকেই তাই আমার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট পছন্দ। যেখানে অনেক বেশি লড়াই করতে হয়। কঠিন লড়াইয়ের জন্য আমি ভিলিয়ার্সের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পাই।

এবি আপনার অনুপ্রেরণা! অথচ আপনাকে তো বিরাট কোহলির সঙ্গে প্রায়ই তুলনা করা হয়! এ বিষয়ে কী বলবেন?

এ রকম কিছু নয়। সে তো বিশ্বসেরা ক্রিকেটার। আর আমার তো মাত্র শুরু হলো। এ জন্য আমি তার সঙ্গে তুলনা পছন্দ করি না। তবে তার পারফর্ম্যান্সও আমাকে অনুপ্রাণিত করে। তাকে আমি অনুসরণও করি। তবে তার সঙ্গে তুলনা পছন্দ করি না। সে বিশ্বসেরা। আমি তা নই।

সে যাই হোক। মিসবাহ উল হক ও ইউনিস খানের অবসরের পর আপনাকেই মনে করা হচ্ছে পাকিস্তানের ভবিষ্যত ব্যাটিং-স্তম্ভ। এই ব্যাপারটা কিভাবে দেখেন? তাদের শূন্যতা কি পূরণ করতে পারবেন?

দেখুন, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে আমি যেভাবে খেলছি, তা খুবই ভালো হচ্ছে। কিন্তু টেস্টে তা হচ্ছে না। আমি চেষ্টা করছি ও রকম পারফর্ম্যান্স টেস্টেও নিয়ে আসার। তারপরও মিসবাহ ভাই ও ইউনিস ভাইয়ের জায়গা কেউ নিতে পারবে না। তারা অনেক বড় ক্রিকেটার ছিলেন। তারা পাকিস্তানকে অনেক সেবা দিয়েছেন। আমিও চেষ্টা করবো বড় কিছু করার। ওয়ানডে টো টি-টোয়েন্টিতে যেমন খেলছি, তা টেস্টেও করবো- ইনশাল্লাহ।

ক্যারিয়ার শেষে নিজেকে কতোটা উঁচুতে দেখতে চান? কেমন ক্যারিয়ার পেলে নিজেকে ধন্য মনে করবেন?

এভাবে তো ভাবি না! পাকিস্তানের জন্য যতো বড় কিছু করা সম্ভব, পুরো ক্যারিয়ার দিয়ে তাই করতে চাই। কবে অবসর নিবো, জানি না। তবে অনেক বড় কিছু করতে চাই দেশের জন্য। আপাতত সামনের বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

শুভ কামনা রইলো! আপনার জন্য শেষ প্রশ্ন- দীর্ঘদিন পর পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরার উপলক্ষ্য তৈরি হয়েছে। আপনি তো দেশে খুব বেশি খেলেননি। তো আবার দেশে ক্রিকেট ফেরার উপলক্ষ্যে আপনি কতোটা আনন্দিত?

দেশের মাটিতে খেলার মজাটাই আলাদা। কারণ নিজেদের দর্শক থাকে সেখানে। ঘরের মাঠে নিজেদের দর্শকদের সামনে খেলতে পারার কোনো তুলনাই হয় না। আমি দেশের মাটিতে চেনা দর্শকদের সামনে খেলতে মুখিয়ে আছি।

মূল ইন্টারভিউটি প্রকাশিত হয়েছে টোয়েন্টিফোর লাইভ নিউজপেপারে।

Leave a Reply